সেতার এর ধারণ

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় সেতার এর ধারণ। সেতার যন্ত্র রীতিমত ধরিতে গেলে, খোলের পশ্চাদ্ভাগ ধারকের সম্মুখ দিকে থাকিবে, দক্ষিণ হস্তের মণিবন্ধ সহকারে তলীর পার্শ্বদিক্ চাপিয়া বাম হস্তে দাণ্ডাটীকে আলগোছে হেলাইয়া রাখা কর্তব্য। বাম হস্তের তর্জ্জনী প্রথম তারের উপর টিপিয়া মধ্যমাঙ্গুলী পীর উপর কুঞ্চিতভাবে আলগোছে রাখিয়া বৃদ্ধাঙ্গুলী দাণ্ডার পশ্চাদ্ভাগে ঠেস রাখিবে।

সেতার এর ধারণ

সেতার এর ধারণ

 

বাম হস্ত এমনি আলগোছে থাকিবে, যেন ইচ্ছামত ইহাকে দাণ্ডার নিম্নে ও ঊর্দ্ধে অতি সহজে নামাইতে ও উঠাইতে পারা যায়। কেহ কেহ খোলের উপর হাঁটু দিয়া বাজান ; কিন্তু সে প্রণালীতে বড় সেতারে রাগাদি ভালরূপে বার্জান আমাদিগের মতে কিছু কষ্টকর বলিয়া বোধ হয়। পণ্ডিতগণ সংস্কৃত সঙ্গীতশাস্ত্রকে দৃশ্য ও শ্রাব্যভেদে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছেন। তন্মধ্যে দৃষ্ঠকে সামান্যতঃ নৃত্য এবং শ্রাব্যকে গীত বলিয়া পরিগণনা করেন।

 

গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন
গুগোল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

গীত আবার দুই ভাগে বিভক্ত, যথা ; – যান্ত্রিক ও গাত্রিক অথবা কাণ্ঠিক । এই নিমিত্ত কেহ কেহ সঙ্গীতকে একেবারেই তিন ভাগে বিভক্ত করিয়া থাকেন। আমাদের দেশে যন্ত্র, কণ্ঠ এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ, সঙ্গীতসাধনের এই ত্রিবিধ উপায় নির্দ্ধারিত আছে। যন্ত্রদ্বারা বাদ্য বা যন্ত্রসঙ্গীত, কণ্ঠদ্বারা গান বা কণ্ঠসঙ্গীত এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গদ্বারা নৃত্যক্রিয়া সংসাধিত হইয়া থাকে । ইহার মধ্যে গানই সর্ব্বাপেক্ষ। কঠিন, সুতরাং বহু আয়াস ও সময়- সাধ্য। বাদ্যক্রিয়।

 

সেতার এর ধারণ

 

যত্ন ও অভ্যাস করিলে অপেক্ষাকৃত স্বল্পতম আয়াসে আয়ত্ত হয়; আর তালবোধ থাকিলে, বোধ হয়, বুদ্ধিমানেরা কিঞ্চিৎ উপদিষ্ট হইলেই নৃত্যের সারমর্শ অল্পক্লেশে উপলব্ধি করিতে পারেন। কিন্তু বাদ্যসাধনই আমাদিগের এ পুস্তকের উদ্দেশ্য, সুতরাং অন্যান্য বিষয়ের বিচারণা পরিত্যাগ করিয়া তাহারই বিষয় বিশেষ রূপে বর্ণন করা যাইবে। আমাদের দেশে বাদ্য বা যন্ত্রসঙ্গীত শিক্ষোপযোগী বিবিধ যন্ত্র আছে, কিন্তু তাহার মধ্যে সেতার-নামক যন্ত্রে যেমন সহজে ও স্বল্পায়াসে এ বিদ্যা শিক্ষিত হয়, এমন আর কিছুতেই হয় না।

আরও দেখুনঃ